Homeঅপরাধটাঙ্গাইলের বাসাইলে ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের ফালা

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের ফালা

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা ,টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌর এলাকায় ১০ কোটি টাকার একটি ব্রিজ নির্মাণে লোহার রডের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের ফালা। চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং অনিয়মের প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে এই ব্রিজ নির্মাণে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলাও করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

বাসাইল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজখাড়া এলাকায় ২ হাজার ৩০৫ মিটার চেইনেজে ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য পিএসসি গার্ডার ব্রিজ  নির্মাণে চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে  ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ৬৫ টাকা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই ব্রিজ নির্মাণ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস আল- মামুন মেসার্স জাকির এন্টার প্রাইজ রাতের আঁধারে স্থানীয়দের চোখ ফাঁকি দিয়ে লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশের ফালা ব্যবহার করে। অভিযোগ উঠেছে, রাত ১২টার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত চলে তাদের এই অনৈতিক কার্যক্রম। রড-সিমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোতে এভাবে বাঁশের ব্যবহার জননিরাপত্তাকে সরাসরি ঠেলে দিয়েছে চরম হুমকির মুখে।

মাইজখাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজ মিয়া বলেন, আমরা ঘুমানোর পর  রাত ১২টার পর ঠিকাদারের লোকজন কাজ করে। এলাকার লোকজন এ নিয়ে কথা বলার কারণে তাদের নামে চাঁদাবাজির মামলা দিয়েছে। বাসাইল উত্তর পাড়ার শিহাব খানশুর বলেন, এই ব্রিজ নির্মাণে অনিয়মের শেষ নাই। এই অনিয়মের সাথে জড়িত স্থানীয় প্রভাবশালী লোক। আমরা চাই তদন্ত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক।

ব্রিজের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার কথা বলছেন তারা। এ ব্যাপারে বাসাইলের উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের না জানিয়ে রাতেআঁধারে তারা কাজ করেছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগ পেয়ে হাতেনাতে প্রমাণ দেখতে সরেজমিনে হাজির হন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ঘটনাস্থলে সত্যতা পেয়ে ঠিকাদারে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, এ ধরনের অনিয়ম কোন অবস্থাতেই বরদাস্থ করা হবে না।

স্থানীয়দের চোখ ফাঁকি দিতে ব্রিজের ঢালাইয়ের কাজ করা হতো রাতের আঁধারে। কিন্তু এলাকাবাসীর সন্দেহের জেরে ফাঁস হয়ে যায় অনিয়মের চরম এই চিত্র। ১০ কোটি টাকার সরকারি প্রজেক্টে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার কেবল অনিয়মই নয়, এটি সুস্পষ্টভাবে গণহত্যার ষড়যন্ত্রের শামিল। দায় এড়ানোর এই সংস্কৃতি আর অদক্ষতার পেছনে কারা জড়িতÑতদন্ত কমিটির মাধ্যমে তা উন্মোচিত হবে, নাকি অন্যান্য অনেক ঘটনার মতো এটিও ধামাচাপা পড়ে যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বাধিক জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য