টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইল পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মারুফ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী হুমায়ুর রশীদ সোনা আকন্দ জেলা বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এ ব্যপারে প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ও সহযোগীতার অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিএনপির পরিক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইছে।
শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল সাব রেজিষ্টার অফিস প্রাঙ্গনে সমিতির সমাবেশ শেষে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় সোনা আকন্দকে সভাপতি ঘোষনা করা হয়। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সমিতির উপদেষ্টা জাফর আহমেদ, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির চেয়ারম্যান এম এ রশিদ ও মহাসচিব এস হোসেন টমাস উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত সমিতির সদস্যরা প্রতিবাদ করলেও তাতে কোন ফল হয়নি।
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেত্রী ও গনসংহতি আন্দোলন টাঙ্গাইল জেলার সংগঠক ফাতেমা আক্তার বিথি। বিথি বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক। শুধু সোনা আকন্দ নয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা সরাসরি ছাত্র-জনতার উপর হামলা ও গুলিবর্ষন করেছে। তাদের অনেকেই শহরের দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতাকর্মীদের দলে ভিড়িয়ে বিএনপি ৩১ দফার পরিপন্থী কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন বিথি। কৃষক দলের নেতা রুহুল আমিন জানান, আজ যখন টাঙ্গাইল-৫ সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ঘোষণা দেয় কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হবে না ঠিক তখনই টাঙ্গাইল পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুর রশীদ সোনা আকন্দ কে সভাপতি ঘোষনা করা হয়।
জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান লিটন বলেন, ফ্যাসিবাদের চিহ্নিত দোসরদের রাজনীতি ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যেই করুক তা অবশ্যই নিন্দনীয়। টাঙ্গাইল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি)শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, সোনা আকন্দের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। টাঙ্গাইল আদালতে বার বার জামিনের আবেদন করেন। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হন। দলিল লেখক সমিতির নতুন সভাপতি ও শহীদ মারুফ হত্যা মামলার আসামী সোনা আকন্দ তার বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা মামলার কথা স্বীকার করেছেন। এরমধ্যে মারুফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামী তিনি। প্রায় সাড়ে তিন মাস কারাবরণও করেছেন। তিনি বলেন, শনিবারের সমাবেশে যারা হট্রগোল করেন, তারা বিএনপির সময়েও হট্রগোল করেছিলেন।
এ ব্যপারে জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোনাকে ঘিরে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে ।বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহরের বিবেবকানন্দ স্কুলের সামনে ছাত্রদের উপর হামলার অভিযোগ করা হচ্ছে কার বিরুদ্ধে ।২০১৮ সালে পৌর নির্বাচনে সোনা আকন্দ জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর অফিস পুড়িয়ে দেয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ঘনিষ্ট সমর্র্থক সোনা আকন্দ সে সময় লেখক সমিতির নেতা নির্বাচিত হন। দলিল লেখক সমিতির একাধিক সদস্যের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ক্ষমতার বলে সোনা বার বার নির্বাচিত হয়েছেন। আর এখন জেলা বিএনপির সভাপতির একক ক্ষমতায় সোনা আকন্দ সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হলেন। এ ব্যাপারে বিএনপির হাই কমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।


















