Friday, February 3, 2023
Homeবাণিজ্যসপ্তাহের বাজারদর: দাম বেড়েছে সবজি ও মাছের, মাংস অপরিবর্তিত

সপ্তাহের বাজারদর: দাম বেড়েছে সবজি ও মাছের, মাংস অপরিবর্তিত

ছুটির দিনে সকাল সকাল মিরপুরের আনসার ক্যাম্প এলাকার ফুটপাতের অস্থায়ী বাজারে বাজার করতে এসেছেন মো. বিল্লাল হোসেন। সকাল হওয়ার সাথে সাথেই ফুটপাতের এই অস্থায়ী বাজার জমে ওঠে। কিন্তু ফুটপাতের এ বাজারেও গত সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে মাছ ও সবজির দাম। শীতের মৌসুমেও শীতের সবজির দাম বেশি দেখে অবাক হয়েছেন তিনি।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর পাইকারী বাজারেও বেড়েছে মাছের দাম। তার সঙ্গে মিল রেখেই এই অস্থায়ী বাজারেও মাছের দাম বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত শীতের কারণে মাছের সরবরাহ কম হচ্ছে বলে মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়টা টাকা লাভের আশায়ই তারা ব্যবসা করেন বলেও জানান তারা।

ব্যবসায়ীরা আরও বলছেন, অতিরিক্ত শীতের কারণে গ্রামাঞ্চলে ফসল তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সবজির বাজারেও। পাশাপাশি গত সপ্তাহে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের কারণে টঙ্গীতে প্রচুর পরিমাণে সবজির চাহিদা ছিল। তাই সবজির দাম বেড়েছিল, কিন্তু আর কমেনি। এখনও ইজতেমা চলছে। আজ থেকে আগামী ২ দিন (২২ জানুয়ারি) দ্বিতীয় দফায় ইজতেমার সময় পর্যন্ত সবজির দাম আরও চড়া থাকতে পারে বলেও জানান সবজি বিক্রেতারা। তবে শীত কিছুটা কমলে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়বে। তখন কমতে পারে সবজি দাম।

রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া বাজারেও দেখা গেছে একই চিত্র। সেখানেও শীতের সবজির দাম একটু বাড়তি। গত সপ্তাহের চেয়ে সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে শীতের প্রতিটি সবজির দামও বাড়তি। সব সবজিতেই কেজিতে অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, মিরপুর এলাকার আনাছার ক্যাম্প, শেওরাপাড়াসহ বিভিন্ন বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। তবে গরু, খাসি, সোনালি মুরগি ও ব্রয়লার মুরগির দাম আগের মতই রয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় সকল প্রকার সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

মিরপুরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার ছুটির দিনে বাজারে কাতল মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, পাবদা ৪৫০ টাকা, মলা ৩৬০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, শিং মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, পাঙাশ ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, কৈ ২৬০ টাকা, বোয়াল ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, টেংরা ছোটগুলো ৫০০ আর বড় ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, রুই ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ এবং গলদা চিংড়ি ৭০০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে শীত এবং ইজতেমার অজুহাতে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। বাজারে প্রতি পিস ফুল কপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহেও ছিল ৩০ টাকা। একইভাবে বাঁধাকপিও প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, ব্রুকলি প্রতি পিস ৫০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, গাঁজর প্রতি কেজি ৪০ টাকা, সিম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৩০ টাকা, শালগম প্রতি কেজি ৩০, খিরা প্রতি কেজি ৩০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা এবং পটল প্রতি কেজি ১২০ টাকা। নতুন আলু প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে সবজি অনুসারে কেজি প্রতি কমপক্ষে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা বা ২০ টাকা কম ছিল।

মিরপুরের বাজারগুলোতে গরুর মাংস আগের মতই দামে, অর্থাৎ কেজি প্রতি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস ৯০০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়, লেয়ার মুরগি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় এবং ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজারের দৃশ্যাদৃশ্য একই রকম। এই বাজারেও সব ধরনের মাছ এবং সবজির দাম বেড়েছে। সাধারণ মানুষেরা বাজারে এসে সাধারণত কম দামের মাছ যেমন, পাঙাশ, রুই, চাষের কই, তেলাপিয়া, নলা এবং বরফ দেওয়া বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ- বেশি কিনে থাকেন। কিন্তু আজকের বাজারে এসব মাছের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ক্রেতারা ছুটির দিনের বাজারে এসে দাম বৃদ্ধি দেখে অস্বস্তিতে পড়েছেন।

মহাখালী কাঁচাবাজারের মাছ বিক্রেতা রাসেল হোসেন জানান, গ্রামাঞ্চলে অতি মাত্রায় শীতের কারণে মাছ তুলতে পারছেন না চাষিরা। এ ছাড়া কুয়াশাসহ শীতের কারণে পরিবহন নিয়েও বিপাকে পড়েছেন অনেকে। ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কম, এ কারণেই মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে।

এদিকে, সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সবজি বিক্রেতা ফজল মিঞা বলেন, শীত ও কুয়াশার কারণে গ্রামের কৃষকরা ফসল তুলতে পারছেন না। যে কারণে সরবরাহ কমেছে। তবে শীত কিছুটা কমলে আগের মতো প্রচুর সবজি সরবরাহ হবে। তখন দাম কিছুটা কমে আসবে।

তিনি বলেন, প্রচুর পরিমাণে সবজি ইজতেমা ময়দানের দিকে চলে গেছে। সেখানে সবজির চাহিদা বেশি। যে কারণে ঢাকায় সবজি কম এসেছে। দাম বাড়ার পেছনে এটিও একটি কারণ। রবিবার ইজতেমা শেষ হলে সবজির দাম কিছুটা কমতে পারে বলেও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বাধিক জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য