Thursday, January 27, 2022
Homeরাজনীতিঢালাও বহিষ্কার থেকে সরে আসবে আওয়ামী লীগ

ঢালাও বহিষ্কার থেকে সরে আসবে আওয়ামী লীগ


আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে যারা প্রার্থী হবেন তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের আর কখনো নৌকা প্রতীক দেয়া হবে না। তৃতীয় দফায় মনোনয়ন চূড়ান্ত করার সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করবে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বরদাস্ত করা হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোথাও কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীদের শাস্তিমুলক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে সেই অবস্থান থেকে সরে আসছে আওয়ামী লীগ। তৃতীয় দফার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রায় ২৭ ভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন। ৯৯২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে ২৭০টিতেই বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্ররা। অন্যান্য স্বতন্ত্ররা বিজয়ী হয়েছেন ৯১টিতে।

এই বিপুল বিজয়ের কারণে আওয়ামী লীগ এখন বিকল্প চিন্তা ভাবনা করছেন। ঢালাওভাবে বহিষ্কার দলের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা মনে করছেন। আর এ কারণেই ঢালাওভাবে যে বহিষ্কারের যে সিদ্ধান্ত সেই সিদ্ধান্ত হচ্ছে না বলেই একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন যে, যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন এবং বিজয়ী হয়েছেন তাদের ব্যাপারগুলো পৃথক পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হবে। কোন প্রেক্ষাপটে, কেন তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এবং এই বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ফল কি হয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী কেন বিজয়ী হতে পারেনি ইত্যাদি নিয়ে আওয়ামী লীগ চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে তারপরই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আওয়ামী লীগের ঐ প্রেসিডিয়াম সদস্য এটি নিশ্চিত করেছেন যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন তারা ভবিষ্যতে আর কোনদিন নৌকা প্রতীক পাবেন না। এটি আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনাবলে ঐ প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান।

তবে ভবিষ্যতে তারা নৌকা প্রতীক পাবেন কি পাবেন না সেটি পরের কথা, আপাতত ঢালাওভাবে বহিষ্কার যে হচ্ছে না এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহল থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কারণ আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে নিরঙ্কুশভাবে বিজয় হতে পারেনি। শেষ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে মাত্র ৫৫ শতাংশ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক আসনে নৌকার প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগ যদি এখনই তাদেরকে বহিষ্কার করে তাহলে এই ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ব নষ্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যেখানে বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন সেখানে আওয়ামী লীগ একাট্টা হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। এখন যদি চেয়ারম্যান কে বহিষ্কার করা হয় তাহলে সেখানে গণপদত্যাগের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে দল নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে। নির্বাচনের মাত্র দু’বছর আগে এরকম ঝুঁকি আওয়ামী লীগ নিতে চায় না। আর এ কারণেই যাচাই-বাছাই করেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে এরকম খবর এসেছে যে, অনেক জায়গায় ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে এবং সেই মনোনয়ন বাণিজ্যের প্রতিবাদ হিসেবে তৃণমূল বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি এই বিষয়টি নির্মোহ তদন্ত করতে চান বলেও আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন। আর এরকম তদন্তের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আদৌ তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে যে ২৭০ জন নির্বাচিত হয়েছেন তাদের অধিকাংশই অত্যন্ত ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতা কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন সময়ে নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছেন। এরকম ব্যক্তিদেরকে চটজলদি বহিষ্কার করাটা কখনো দলের জন্য ইতিবাচক নয় এর ফলে দলে অনুপ্রবেশকারী আরও প্রাধান্য পেতে পারে। এসব বিবেচনা থেকেই আওয়ামী লীগ এখন বিদ্রোহী বিজয়ী প্রার্থীদের ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তারা সমস্ত পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষণ করে তবে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
সুত্র : বাংলা ইনসাইডার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বাধিক জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য