Tuesday, June 18, 2024
Homeদেশগ্রামকাঙ্খিত মাছ নেই নদীতে- অভাবে দিন কাটছে জেলে পরিবারের

কাঙ্খিত মাছ নেই নদীতে- অভাবে দিন কাটছে জেলে পরিবারের

জাহিদ দুলাল, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: 

৩৫ বছর বয়সী মো. নূরেআলম। তার পেশা মাছশিকার করা। তিনি জীবনের অন্তত ২২ বছরইকাটিয়েছেন মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে। এইনদীই তাদের জীবিকার একমাত্র মাধ্যম। যেন নদীরঢেউয়ে জীবন দুলে নূরেআলমের মতো হাজার হাজারজেলের। জেলে নূরেআলম ভোলার লালমোহনউপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বরওয়ার্ডের খোরশেদ আলমের ছেলে। নিজস্ব ট্রলারেকরেই ওই ইউনিয়নের বাতিরখাল মৎস্যঘাট থেকেনদীতে মাছ শিকারে যান নূরেআলম।

তিনি বলেন, গত ১লা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্তদীর্ঘ দুই মাস নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওইনিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ১০জন জেলেসহ মেঘনানদীতে মাছ ধরতে নামি। একদিন নদীতে মাছ ধরারজন্য ট্রলারের তৈল, চাল, ডাল এবং অন্যান্য খরচবাবদ প্রায় দশ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সারা রাতমাছ শিকার করে সকালে ঘাটে ফিরে মাছ বিক্রিকরেছি ৮ হাজার টাকার। সেখান থেকে কমিশন বাবদআটশত টাকা কেটে রেখেছেন আড়তদার। আয় তোদূরের কথা, ওইদিন লোকসানই হয়েছে প্রায় ৩ হাজারটাকা। এতে করে দিনের পর দিন দেনার পরিমাণকেবল বাড়ছে। নদীতে তেমন মাছ না থাকায় এখনআর মাছ ধরতে যাই না।

শুধু জেলে নূরেআলমই নয়, ওই মৎস্যঘাটের মো. কামাল মাঝি, মো. নয়ন মাঝি এবং হেলাল মাঝিসহআরো বেশ কয়েকজন জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞাদেওয়া হয়েছিল মাছ পাওয়ার আশায়। এখননিষেধাজ্ঞা শেষ, তবে নদীতে তেমন মাছ নেই।আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় আমাদের দুর্দশারও শেষনেই। নদীতে মাছ না থাকায় আমরা আর্থিক কষ্টেরয়েছি। এতে করে পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসারচালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানেআমাদের সংসার চলছে অভাব-অনটনে। কারণ গতকয়েক বছর ধরেই নদীতে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। যার ফলে ধার-দেনা বাড়ছেই। শত চেষ্টা করেওকোনোভাবে আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না।কারণ আমাদের আয়ের উৎস কেবল নদীর মাছশিকার করায়। সেই নদীতেই এখন তেমন মাছ নেই।

তারা আরো জানান, আমরা লক্ষ্য করে দেখেছি; যখন নদীতে মাছ থাকে তখন মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞাদেওয়া হয়। আর যখন মাছ থাকে না তখননিষেধাজ্ঞাও থাকে না। এ কারণেই মূলত আমরা মাছপাচ্ছি না, দেনায় জড়িয়ে থাকি বছরের পর বছর।তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে অনুরোধ রইলো সামনেরদিকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি  বিবেচনা করে দেওয়ার।

লালমোহন উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৪ হাজার ৮০৬জন। তবে এর প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ৩০ হাজার। যারাকেবল মাছ ধরার ওপরই নির্ভরশীল। লালমোহনউপজেলার ছোট-বড় অন্তত ২৭টি মৎস্যঘাট থেকেজেলেরা মাছ ধরতে নদীতে নামেন। উপজেলারমেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ৪০ কিলোমিটারএলাকাকে অভয়াশ্রম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নদীতে মাছ কম থাকার বিষয়ে লালমোহন উপজেলাসামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, বর্তমানে নদীর বিভিন্ন স্থানে পলিমাটি জমে নাব্যতাসংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে নদীর গভীরতা কমেগেছে। এ কারণে নদীতে মাছ আসছে না। তবে প্রচুরবৃষ্টি হলে নদীর পানি বাড়বে, তখন নদীতে মাছওআসবে। এরপর জেলেরা নদীতে গিয়ে কাক্সিক্ষতমাছ পাবেন বলে আশা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বাধিক জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য