Tuesday, June 30, 2026
Homeঅপরাধলালমোহনে জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিওভুক্তির অপচেষ্টা, অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ 

লালমোহনে জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিওভুক্তির অপচেষ্টা, অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ 

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল, ভুয়া চিঠি তৈরি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন এবং ফলাফল শীট তৈরির মাধ্যমে অবৈধভাবে এক কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার অপচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের মুসলিমিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো: মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরীর এমপিও সাময়িক স্থগিত করেছেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সাথে জালিয়াতির অপরাধে তাঁর এমপিও কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না তা জানতে চেয়ে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানের নোটিশ জারি করা হয়েছে।

২৯ জুন, ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখা থেকে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে এই কারণ দর্শানো হয়। সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতির গুরুতর বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী গঠিত এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটি কর্তৃক জুন/২০২৬ মাসের এমপিও যাচাই-বাছাইকালে বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। উক্ত মাদ্রাসার ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর‘ পদে মো: সাকিল নামের এক ব্যক্তির নতুন এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন প্রেরণ করা হয়েছিল।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি উক্ত আবেদনটি যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দেখতে পান যে, এই নিয়োগের ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সম্পূর্ণ জাল চিঠি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড এবং ভুয়া ফলাফল বিবরণী তৈরি করা হয়েছে। এমনকি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষরও হুবহু জাল করা হয়েছে।

এই জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৬ এর ১৮.১ (গ) ও (ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যক্ষ মো: মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরী (ইনডেক্স নং: B367661) এর বেতন ভাতা (এমপিও) সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। এই অপরাধে কেন তাঁর এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, তার যথাযথ জবাব প্রদান করার কথা বলা হয়েছে।

ইতোপূর্বে এই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একই প্রক্রিয়ায় সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান) পদে নিয়োগ প্রদান করায় ডিসেম্বর ২০২৫ এমপিওশীট থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকের নাম কর্তন করা হয়েছে এবং অধ্যক্ষের বেতন স্থগিত করা হয়েছিলো।

মুসলিমিয়া আলিস মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরীর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, তদ্বির ছাড়া বিল পাঠালে এইরকম করে। জালিয়াতির বিষয়টি দেখা যাক কি হয়। ডিজি প্রতিনিধির স্মারক নাম্বার তো আছে। কারণ দর্শানোর বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা হবে।

এব্যাপারে লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)  মীর একেএম খায়রুল কবির এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি আমি আসার আগে হয়েছে। আমি বর্তমানে দুই উপজেলার দায়িত্বে রয়েছি। অনলাইনে প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন করার পর সময় স্বল্পতার কারণে আমার একার পক্ষে সবগুলো ফাইল ভালো ভাবে দেখা সম্ভব হয়না। কারণ দর্শানোর বিষয়টি আমি শুনেছি। আমার হাতে এখনো কোন চিঠি আসেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বাধিক জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য