টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলে ৮ বছরেও হয়নি ব্রিজের সংযোগ সড়ক।এতে দুর্ভোগে টাঙ্গাইল পৌরবাসী।অপরদিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন।
জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার কালিপুর এলাকায় লৌহজং নদীর পাড় ঘেষে ২০১৮ সালে পৌরসভার তত্বাবধানে একটি ব্রিজ নির্মিত হয়। আর সেই ব্রিজে কালিপুর ও পাতুলিপাড়া এলাকার শত শত মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁডায়।
জানা যায়, লৌহজং নদীর পাড় ঘেষে ২০১৮ সালে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও আজও নির্মাণ করা হয়নি দুই পাশের সংযোগ সড়ক ও মাটি ভরাটের কাজ। ফলে আট বছর ধরে সেতুটি জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না। প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছেন এলাকার শত শত মানুষ। এতে স্কুল কলেজ ও স্বাস্থ্য সেবা এবং কি চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, যাতায়াত শুধু নয় ভোগান্তির শেষ নেই। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার টাঙ্গাইল পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর ধরে সেতুটি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর প্রতি দৃষ্টি আহ্বান জানান যাতে রাস্তা সহ ব্রিজটি কাজ সম্পন্ন করা হয়।
আসাদ্দুজ্জামান সোহেল জানান, টাঙ্গাইল পৌরসভার নিকটবর্তী রাস্তা হচ্ছে কালিপু্র ও পাতুলি পাড়া । লৌহজং নদী পাড় ঘেষে এটি দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কার ও সংযোগ সেতুর মাটি না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে আমাদের। কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়কের কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মোখলেছ জানান,সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট না থাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষকেও বিকল্প পথ ব্যবহার করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় রেজা জানান এই ব্রিজের কারণে আমার দোকানে মালামাল আনতে খরচ বেশি পড়ে যায়। এছাড়া খরচের চেয়ে বড় কথা হল ভোগান্তি পোহাতে হয়। শুধুমাত্র ব্রিজের এপাশ থেকে ওপাশে ব্যাপার। শহর হতে দোকানের মালামাল ক্রয় করে এনে ব্রিজের ওই পাশে রাখতে হয়। সেখান থেকে কাঁধে করে অথবা মাথায় করে মালামাল এই পাশে আনতে হয়। আরিফুল ইসলাম জানান এই ব্রিজের দু’পাশের অ্যাপ্রচে মাটি না থাকায় বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। শহরে ঢুকতে ২০ টাকার রিক্সা ভাড়া বিকল্প রাস্তায় ঘুরে যেতে ৮০ টাকা বেশি লাগে। এছাড়াও জরুরী রোগী হাসপাতালে নিতে বেশ ভোগান্তি পথে হয়। সরাসরি কোন এম্বুলেন্স না পাওয়ায় রিক্সাসায় করে বিকল্প রাস্তা ঘুরে যেতে হয়। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি দ্রুত আমাদের ব্রিজের সংযোগ সড়কে এপ্রোচে মাটি দিয়ে চলাচলের জন্য সুব্যবস্থা করে দেওয়া।
স্থানীয় নুরু মিয়ার দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই সরকারি অর্থে নির্মিত সেতুটি আট বছর ধরে অকেজো হয়ে আছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও দুই পাশে মাটি ভরাট করে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার জন্য।
স্থানীয় জসিম উদ্দিন জানান বাসার কাছে ব্রিজটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এত টাকা খরচ করে সরকার আমাদের চলাচলের জন্য এত সুন্দর ব্যবস্থা করে দিয়েছে অথচ শুধুমাত্র দু’পাশে কিছু মাটি ফেলে দিলেই যোগাযোগের ব্যবস্থা ভালো হয়ে যায়। তিনি আরো জানান সামনে বর্ষা রয়েছে। সে সময় আরো বিপদ বেড়ে যায়। একদিকে ব্রিজের দুপাশে পানি থাকে। সেই পানিতে ছোট ছোট বাচ্চারা পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। চলাচল তো দূরের কথা আরো বিপদ ডেকে আনে। তাই এত সুন্দর চলাচলের জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছেন পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তাহলে পৌরসভার কর্তৃপক্ষ নিকট আকুল আবেদন রইল দ্রুত আমাদের ব্রিজে দু’পাশে মাটি ফেলে চলাচলের ব্যবস্থা করে দিন। কচুয়াডাঙ্গার আব্দুল আলিমের দাবি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ব্রিজের অ্যাপ্রচ সড়ক দ্রুত করে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। তিনি মনে করেন পড়ে থাকা ব্রিজের অ্যাপ্রচ সড়ক নির্মাণে স্থানীয় সংসদ সদস্য, পৌর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন বলছেন, রাস্তা ও ব্রিজ বিষয়ে অবগত হয়েছি উর্দ্ধতন কর্মকর্তা সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

















