Homeরাজনীতিআজ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আজ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আজ ১ সেপ্টেম্বর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। ১৯৭৮ সালের এই দিনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল চার যুগ পূর্ণ করে উনপঞ্চাশে পা দিচ্ছে আজ ১ সেপ্টেম্বর। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, উত্থান-পতন আর ভাঙা-গড়ায় ৪৮ বছরের পূর্ণ যৌবনে উপনীত হয়েছে দলটি।

পঞ্চমবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি। এমন একটি সময়ে চার যুগ পূর্ণ করেছে, যখন দীর্ঘ প্রায় কুড়ি বছরের ঘোর অমানিশা কাটিয়ে ক্ষমতার নাগাল পেয়েছে। দুবছর আগে আগস্ট মাসের ৫ তারিখে ঘটে যাওয়া ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় এক অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে সুদিনের মুখ দেখে বিএনপি। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে গেল ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করে। সরকারের ৬ মাসেও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি বলেছেন, জনগণের মতামত ও ভোটাধিকারকে বিএনপি সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিএনপি এখন সরকারে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতা মন্ত্রিসভায়, কেন্দ্র ও মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বড় অংশ সংসদ সদস্য। অনেকে দায়িত্ব পেয়েছেন বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানেও। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় এখন তাঁরা বেশি ব্যস্ত। এর প্রভাব পড়েছে দলীয় কর্মকাণ্ডে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বাণীতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ থেকে ৪৮ বছর আগে এই দিনে দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বীর রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে আমি মহান আল্লাহর দরবারে শহীদ জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে গোড়াপত্তন করেন, তা অর্জনে মরহুম চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি ও বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে পরিচালিত বিএনপি কতটা সফল বা বিফল তা বিচার-বিশ্লেষণ হতে পারে। তার আগে কোন পটভূমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠা, তা নিয়ে খানিকটা আলোকপাত করা যাক।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই এ দেশের মানুষ তৎকালীন শাসকশ্রেণির দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, নিপীড়নে অতিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক বিশৃঙ্খলা, দুর্ভিক্ষ ও একদলীয় শাসনের নাগপাশে বন্দি হয়ে পড়ে। স্বাধীন সংবাদপত্র ও বিচারব্যবস্থা বাকশালী শাসনের অক্টোপাসে আবদ্ধ হয়ে যায়। এমনই এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘটে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও মহান মুক্তি-সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি। নাজুক ও টালমাটাল পরিস্থিতিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক আহমদ দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন। পরে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অবস্থা যখন বিপর্যস্ত এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির সম্মুখীন, ঠিক তখন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার মিলিত বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন বীরউত্তম মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ।

তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করে সামরিক শাসন অবসানের উদ্যোগই শুধু নেননি, দেশকে গণতন্ত্রে ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বহুদলীয় রাজনীতি চালুর ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন। ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সংসদ বসার আগেই দেশ থেকে সামরিক আইন তুলে নেন। মুজিব শাসনে বাকশাল গঠন, সংবাদপত্র ও মৌলিক অধিকার হরণ, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং হিংসাশ্রয়ী রাজনীতির ফলে দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা পূরণের জন্য এবং স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতি চালু করে দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করা তখন এক ধরনের অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

বিএনপির বর্তমান কর্ণধার তারেক রহমান দেশ পরিচালনার পাশাপাশি দল পরিচালনার ক্ষেত্রে শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার উদার অথচ দৃঢ় নীতি অনুসরণ করবেন; শৃঙ্খলার প্রশ্নে সুকঠিন হবেন; অনিয়ম-দুর্নীতি ও পেশিশক্তির আস্ফালন প্রশ্নে জিরো টলারেন্স দেখাবেন; উন্নয়ন, উৎপাদন ও জনগণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা করবেন; অসৎ, ধান্ধাবাজ, সুবিধাবাদী এবং তোষামোদকারী চক্রে বন্দি হবেন নাÑএসব আকাঙ্ক্ষা গণমানুষের। এমন আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে শতভাগ না হোক বহুলাংশে সফল হলেই তিনিও হয়ে উঠবেন বাবার মতো সফল রাষ্ট্রনায়ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বাধিক জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য