শাহীন কামাল
দেশের রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরে ব্যাপকভাবে আলোচিত ফেনীর আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী ব্যক্তিজীবনে চিরকুমার ছিলেন। রাজনৈতিক সুদিনে জীবনের অনিবার্য প্রয়োজনে চিরকুমার অপবাদ ঘুচানো কিংবা একাকিত্ব অবসানের প্রমাণ অনেকের জীবনে থাকলেও জয়নাল হাজারি সেটা করেননি বরং তার চিরকুমার বিষয়ক কথা বলেছেন অকপটে। কখনো সেই বিষয়টাকে আলোচনায় টেনে এনেছেন ইচ্ছাকৃতভাবে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন কোন এক একুশের বইমেলায় তাঁর লেখা ‘বিজুর বিচার চাই’ বইটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল তার চিরকুমার জীবন নিয়ে। শেষ দিনগুলোতে অনেকটা নিভৃতচারী হয়ে উঠলেও আলোচনা ও বিতর্ক তাকে পিছু ছাড়েনি। রাজনীতিতে নামিদামি থেকে শুরু করে জনসাধারণ পর্যায়ে বহু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিলেও ব্যক্তিগত জীবনে কোনো সঙ্গিনীর বাহুডোঁরে বাঁধা না পরা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
কেন তার এই একলা জীবনযাপন? কেন চার হাত এক হয়নি তার? কেনইবা কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেননি জয়নাল হাজারী? তার অবিবাহিত জীবন নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে জনমানুষের মধ্যে কৌতূহলে কখনোই ভাটা পড়েনি। তিনি নিজেও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একাধিকবারই ব্যক্তিগত জীবনের বাহাস শুনিয়েছেন। তবে চিরকুমার জয়নাল হাজারী কখনোই অবিবাহিত জীবনকে কোনো ‘গ্যাপ বা শূন্যতা’ হিসেবে স্বীকার করেননি। বিয়ে না করার পেছনে ‘বিজু’ নামের এক তরুণীর সঙ্গে এই রাজনীতিকের সম্পর্ক ও বিচ্ছেদের কাহিনি অনেকবারই সামনে এসেছে।
বিজুর সঙ্গে বিচ্ছেদের সেই কাহিনী নিয়ে তিনি বললেন, ‘আমি যখন ফেনী কলেজের ছাত্র ছিলাম, সেও তখন ফেনী কলেজের ছাত্রী ছিল। সে গান গাইতো। আমি গীতি নকশা করতাম। আমি স্টেজে কথা বলতাম। সে গান গাইতো। এভাবেই আমাদের ভালো সম্পর্ক ও প্রেম হয়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি যখন যুদ্ধে চলে গেলাম। তখন তার বাপসহ, তার বাবা দক্ষিণপন্থী ছিলেন। তারা সোনাদিয়া এলাকায় আত্মগোপন করে। সেখানে একটা রাজাকার অনেকটা জোর করেই তাকে বিয়ে করে ফেলে।
বিজুর সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল সে আমাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবে না। কিন্তু বোঝা গেল সে খুব প্রেশারে পড়ে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। যুদ্ধের সময়েই খবর পাচ্ছিলাম যে বিজুর বিয়ে হয়ে গেছে।
মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে আমি তাকে ছিনিয়ে নিয়ে আসতে পারতাম। যেহেতু আমার দল ছিল, ক্যাডার ছিল। তখন কোন প্রশাসনের ধার ধারতে হতো না। আমিই ফেনী পরিচালনা করি। তবে আমি সেটা করিনি। আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম সেটা সে রাখেনি। পরবর্তীতে এর কোন প্রতিকারও সে করেনি। কেন সে ওয়াদা ভঙ্গ করলো সেটার জন্যই আমি বিজুর বিচার চেয়েছি।
বিজুর সঙ্গে পরবর্তীতে আমার আর কখনও কথা হয়নি। সে একটা স্কুলে মাস্টারি করতো। সেখান থেকে রিটায়ার্ড করেছে। রিটায়ার্ড অনুষ্ঠানে আমাকে অতিথি করার জন্য স্কুল থেকে ফোন দিয়েছে কিন্তু আমি যাইনি। আরএ জন্যই আমি চিরকুমার।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিজুর স্বামী মারা গেছে। ওর একটা ছেলে কানাডা থাকে।’
রাজনীতি নিন্দিত নন্দিত জয়নাল হাজারি আজ পরপারে পাড়ি দিয়ে প্রমাণ করলেন তিনি এতদিন বেঁচে ছিলেন।


















