Wednesday, January 14, 2026
Homeঅপরাধচট্টগ্রাম কাস্টমসে ভয়াবহ জালিয়াতি

চট্টগ্রাম কাস্টমসে ভয়াবহ জালিয়াতি

একজন গার্মেন্ট মালিক, নাম আমীনুল ইসলাম। তার বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানের বিআইএন (ব্যবসা নিবন্ধন নম্বর) ব্যবহার করে ও জাল কাগজপত্র বানিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পর্দার ও চেনিল কাপড় আমদানি করেছে। শুধু তাই নয়, আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রায় নিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পণ্য খালাসও নিয়েছে চক্রটি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জানতে চাইলে কাস্টমস কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে আদালতে চার্জশিট দেবে।

সে অনুযায়ী আদালত বিচার করবেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি আমার যোগদানের আগের। যতদূর জেনেছি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ জালিয়াতি করেছে। এর সঙ্গে কাস্টমসের লোকজনও সম্পৃক্ত থাকতে পারে। পুলিশ একজনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে বলে জেনেছি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের ওয়াসিফ নিট কম্পোজিটের নামে চায়না থেকে বন্ড সুবিধায় এফওসির (ফ্রি অব কস্ট) মাধ্যমে পলিস্টার ফেব্রিক্স আনা হয়। পণ্য খালাসে ২৩ মে অক্সফোর্ড শিপিং লিমিটেড (সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট) কাস্টমসে বিল অব এন্ট্রি জমা দেয়। এক মাস পার হওয়া সত্ত্বেও খালাস না নেওয়ায় নিয়মানুযায়ী পণ্য নিলামে তোলা হয়। নিলামের ক্যাটালগভুক্ত হওয়ায় ১ জুলাই পণ্য কায়ি

রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পেরে গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আয়রন চাকমা বাদী হয়ে গার্মেন্ট মালিক আমীনুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মেহরাজ সুলতানা এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অক্সফোর্ড শিপিং লিমিটেডের মিলন কান্তি আচার্য, একেএম শহীদুল কাউছার, কাজী রিয়াজ উদ্দিন, শাহাবউদ্দিন, মিনহাজ উদ্দিন নিজাম ও এরশাদুল করিম তালুকদারকে আসামি করে কাস্টমস আইনে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন।

মিথ্যা তথ্যে আদালতের রায় : নিলাম স্থগিত রাখতে জালিয়াত চক্র ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর আদালতে রিট করে। আদালতে রিটকারী যে এফিডেভিট দেয়, তাতে আমীনুল ইসলামের বাবা ও মায়ের নাম উল্লেখ করা হয় যথাক্রমে ফায়জুল ইসলাম ও মৃত জাহানারা বেগম। এবং যে ভোটার আইডি কার্ড দেওয়া হয়, তার নম্বর হচ্ছে : ২৬৯৫৪৩২৯২৫০১৯।

অথচ আমীনুল ইসলামের বাবার নাম স্মার্টকার্ড অনুযায়ী সিরাজুল ইসলাম ও মায়ের নাম রেজিয়া বেগম। অর্থাৎ, জালিয়াত চক্র অন্য ভোটার আইডি কার্ডে শুধু আমীনুল ইসলামের নাম বসিয়ে আদালতে রিট দায়ের করে।

শুধু তাই নয়, কোম্পানির প্যাড, স্ট্যাম্প ও স্বাক্ষর জাল করা হয়। এফিডেভিটে উল্লেখ করা এনআইডি কার্ডের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকৃত কার্ডধারীর নাম লুৎফর রহমান। পিতা : ফিরোজুর রহমান, মায়ের নাম : জাহানারা বেগম। তিনি কুমিল্লার কালিয়াজুরি মৌলভীপাড়া বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা।

রিটের বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস মতামত দিয়েছেন যে, রিট মোকদ্দমার বাদী জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করে আদেশ হাসিল করেছেন ও কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে আমদানিকৃত মালামাল খালাস করেছেন। আমদানিকারকসহ জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

ক পরীক্ষা ও ইনভেন্ট্রি করা হয়। কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, পলিস্টার ফেব্রিক্সের বদলে আনা হয়েছে পর্দার ও চেনিল কাপড়। আর ২৩ হাজার ৫০০ কেজির পরিবর্তে ২৬ হাজার ৬৪০ কেজি ফেব্রিক্স পাওয়া যায়। জালিয়াত চক্র নিলাম স্থগিত রাখতে আদালতের শরণাপন্ন হয়। পরে আদালতের রায় আমলে নিয়ে ১৫ অক্টোবর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে চালান খালাসের অনুমতি দেন কমিশনার। আদেশ ইস্যু হয় ১৮ অক্টোবর।

রহস্যজনকভাবে কমিশনারের বিচারাদেশের পরও কাস্টমসের এআইআর শাখা চালানটি অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে (কাস্টমসের নিজস্ব সফটওয়্যার) লক করে। পরে ওই আইডি থেকেই ৮ নভেম্বর চালান আনলক করা হয় এবং শুল্ক-কর পরিশোধ না করেই চালানটি বন্দরের গেট দিয়ে নির্বিঘ্নে নিয়ে যাওয়া হয়।

রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পেরে গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আয়রন চাকমা বাদী হয়ে গার্মেন্ট মালিক আমীনুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মেহরাজ সুলতানা এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অক্সফোর্ড শিপিং লিমিটেডের মিলন কান্তি আচার্য, একেএম শহীদুল কাউছার, কাজী রিয়াজ উদ্দিন, শাহাবউদ্দিন, মিনহাজ উদ্দিন নিজাম ও এরশাদুল করিম তালুকদারকে আসামি করে কাস্টমস আইনে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন।

মিথ্যা তথ্যে আদালতের রায় : নিলাম স্থগিত রাখতে জালিয়াত চক্র ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর আদালতে রিট করে। আদালতে রিটকারী যে এফিডেভিট দেয়, তাতে আমীনুল ইসলামের বাবা ও মায়ের নাম উল্লেখ করা হয় যথাক্রমে ফায়জুল ইসলাম ও মৃত জাহানারা বেগম। এবং যে ভোটার আইডি কার্ড দেওয়া হয়, তার নম্বর হচ্ছে : ২৬৯৫৪৩২৯২৫০১৯। অথচ আমীনুল ইসলামের বাবার নাম স্মার্টকার্ড অনুযায়ী সিরাজুল ইসলাম ও মায়ের নাম রেজিয়া বেগম। অর্থাৎ, জালিয়াত চক্র অন্য ভোটার আইডি কার্ডে শুধু আমীনুল ইসলামের নাম বসিয়ে আদালতে রিট দায়ের করে।

শুধু তাই নয়, কোম্পানির প্যাড, স্ট্যাম্প ও স্বাক্ষর জাল করা হয়। এফিডেভিটে উল্লেখ করা এনআইডি কার্ডের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকৃত কার্ডধারীর নাম লুৎফর রহমান। পিতা : ফিরোজুর রহমান, মায়ের নাম : জাহানারা বেগম। তিনি কুমিল্লার কালিয়াজুরি মৌলভীপাড়া বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা।

রিটের বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস মতামত দিয়েছেন যে, রিট মোকদ্দমার বাদী জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করে আদেশ হাসিল করেছেন ও কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে আমদানিকৃত মালামাল খালাস করেছেন। আমদানিকারকসহ জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বাধিক জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য