Tuesday, April 14, 2026
Homeশিক্ষা সংবাদসাংবাদিকের অপ্রকাশিত কথা (পর্ব ১৩) "লালমোহন মহিলা কলেজ"

সাংবাদিকের অপ্রকাশিত কথা (পর্ব ১৩) “লালমোহন মহিলা কলেজ”

মোঃ সোয়েব মেজবাহউদ্দিন

১৯৯৩ সালের এক সকালে গনেশ দাদার পলাশ ষ্টুডিওতে বসে ছিলাম। লালমোহন পৌরসভার চেয়ারম্যান এনায়েত করীর, লালমোহন উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন আহম্মেদ, প্রকৌশলী আবুল কাশেম পঞ্চায়েত সহ কয়েকজন পলাশ ষ্টুডিওর সামনে এসে বললেন তারা লালমোহনে একটি মহিলা কলেজ করার উদ্দোগ নিয়েছে। তাই বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নিচ্ছে। গনেশ বাবু কিছু টাকা দিলেন। বলহরি ফার্মেসির বলহরি বাবুও কিছু টাকা দিলেন।

লালমোহন উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন আহম্মেদ নানা আমাকে বললেন তু্মি ও সহায়তা কর পাশ করে আসলে চাকুরী করতে পারবা। আমি ও আমার পকেট থেকে কিছু টাকা দিলাম। আমি মহিলা কলেজ করা নিয়ে দৈনিক প্রবাসী পত্রিকায় একটি সংবাদ পাঠাই। এবং সংবাদ প্রকাশ হয়।

পৌরসভার চেয়ারম্যান এনায়েত করীর, লালমোহন উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন আহম্মেদ, প্রকৌশলী আবুলে কাশেম পঞ্চায়েত এর চেষ্টার ফলে লালমোহনের পাবলিক লাইব্রেরীর ভবনে “লালমোহন মহিলা কলেজ” নামে এক মহিলা কলেজ চালু হয়। দক্ষিনাঞ্চলের বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ বরিশাল বি. এম. কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ হানিফ স্যারকে অধ্যক্ষ করা হয়। প্রফেসর মোঃ হানিফ স্যার অধ্যক্ষ হয়ে সেই কলেজের নাম পরিবর্তন করে অধ্যক্ষ মোঃ হানিফ মহিলা কলেজ করেন।কলেজের শিক্ষকদের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য প্রচুর লেখকদের বই সংগ্রহ করে লাইব্রেরী তৈরী করেন। যেখানে শিক্ষকরা পড়াশুনা করার নিয়ম চালু করেন। পরবর্তীতে বিএনপি আমলে প্রফেসর মোঃ হানিফ স্যার অজ্ঞান কারনে অধ্যক্ষ হতে পদত্যাগ করে বরিশাল চলে যান। বিএনপি আমলে লালমোহন মহিলা কলেজের নতুন নাম হয় করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ।      

আমি ১৯৯৬ সালে এম.কম. পাশ করার পর করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রভাষক পদে আবেদন করি। বরিশাল সরকারী কলেজে ভাইবা দিয়ে প্রথম হই। কিন্তু কিন্তু আমার চাকুরী হয় না। যে মহিলা কলেজ তৈরীতে আমি অনুদান দিয়েছিলাম সেই লালমোহন মহিলা কলেজে আমার চাকুরী হয়না, শুধুমাত্র লালমোহন পৌরসভার চেয়ারম্যান এনায়েত করীর এর বিরোধীতার কারণে। আমার অপরাধ আমি বিএনপি করি না এবং আমি লালমোহন পৌরসভার বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ এবং পৌরসভার কর্মচারীদের বেতন দীর্ঘদিন বকেয়া থাকার সংবাদ প্রকাশ করি। আমি লালমোহন মহিলা কলেজে চাকুরী করে অবসরপ্রাপ্ত বাবা মায়ের পশে থেকে তাদের খেদমত করার সুযোগ চেয়েছিলাম। কিন্তু সততার সাথে সাংবাদিকতা করার অপরাধে যোগ্যতা থাকার পরও লালমোহন মহিলা কলেজে আমার চাকুরী হয় নাই। লালমোহন উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন আহম্মেদকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আমার কেন লালমোহন মহিলা কলেজে চাকুরী হয় নাই, তিনি বললেন, পৌরসভার চেয়ারম্যান এনায়েত করীর সাহেব চাননাই, তাই তোমার লালমোহন মহিলা কলেজে চাকুরী হয় নাই। লালমোহন পৌরসভার চেয়ারম্যান এনায়েত করীর বেশ কিছুদিন পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। (চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বাধিক জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য