লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ
ভোলার লালমোহনে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের বাড়িঘর ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে মো. ফিরোজ ফরাজি গংদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে উত্তর ফুলবাগিচা ৪নং ওয়ার্ড মোল্লা বাড়ির খালের পশ্চিম উত্তর পাশে ফিরোজ ফরাজির বাড়িতে। নিজেদের ঘর নিজেরা কুপিয়ে উল্টো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ফিরোজ ফরাজির আপন শালা জসিম মোল্লাকে ফাঁসাতে অভিনব পন্থায় নিজের বাগান বাড়ির ঘর কুপিয়ে ও ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী জসিম মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, আমি বৃহস্পতিবার সকালে খালের পশ্চিম পাশে ঘাস কাটাতে গেলে আমার বড় বোনের জামাই এসে বলে তুমি সব সময় আমার কলাগুলো কেন কেটে নিয়ে যাও। তখন আমি বলি আমি আপনার কলা কেন নিব। কে বা কারা নেয় আমি কি করে বলব। এরই মধ্যে বোন রোকেয়া এসে আমাকে অকর্থ ভাষায় গালি-গালাজ শুরু করে। তখন আমি বলি তোমাকে আমি জমি পাইয়ে দিসি এরপর তুমি আমার সাথে এমন করো কেন। আমি আমি কলা নিয়েছি তোমরা কি কখনো দেখেছ। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার দুলাভাই ফিরোজ ফরাজি ও দুই ভাগিনা আমাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। আমরা ডাক চিৎকার শুনে আমার বড় ভাই ফারুক মোল্লা এসে তাদের কবল থেকে আমাকে ছাড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। আমরা আসার সময় তারা আমাদেরকে দেখিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। আমরা বাড়িতে আসার পর ফিরোজ ফরাজি ও তার ছেলেরা বাগানের মধ্যে থাকা তাদের নিজেদের ঘর কুপিয়ে ও ভাঙচুর করে। এরপর তারা আমাদের নামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। আমি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার দাবি জানাচ্ছি।
জসিম মোল্লার পিতা বয়োবৃদ্ধ আশ্রাফ আলী মোল্লা জানান, আমার পাঁচ কন্যা এদের মধ্যে দুই কন্যা আমার
স্ত্রীর নামে থাকা জমিগুলো তাকে মিল করে রোকেয়া ও আরজু নিয়ে যায়। আমরা তখন বুঝতে পারিনি।তারপর সন্তানের দিকে তাকিয়ে চুপ ছিলাম। এখন আবার তারা তাদের নিজেদের ঘর নিজেরা কুপিয়ে আমরা ছেলে ও নাতিদের নামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে।প্রত্যক্ষদর্শী রাজিয়া বেগমসহ অন্যান্যরা জানান, জমিস মোল্লাদের সাথে মারামারির পর তারা সবাই বাড়ি চলে যায়। এরপর ফিরোজ ফরাজিরা নিজেরা নিজেদের ঘর ভাঙচুর করে এখন তাদের ফাঁসানের চেষ্টা করছে।
অপরদিকে অভিযুক্ত ফিরোজ ফরাজি জানান, জসিম অনেক দিন ধরে আমার বাগানের কলা সব কেটে নিয়ে যায়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করতে গেলে সে উল্টো আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। এটপর তাকে জিজ্ঞেস করতে তার বোন গেলে তাকে মারধর করে। এরপর তার ভাইরা লোকজন নিয়ে এসে আমার ঘর ভাঙচুর করে।
এবিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, এবিষয়ে এক পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইন আনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
















