শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা,টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের সখীপুরে মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা তোরাব আলী ও তার পরিবারকে এক ঘরে করে রাখার প্রতিবাদে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন ওই ভুক্তভোগী পরিবার।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সখীপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য। স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের মেয়ের স্বামী, মুজিব কলেজ মোড় মসজিদ কমিটির সভাপতি শেখ ফরিদ ও মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলায় ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষী দেওয়ার পর থেকে পরিবারিটিকে তারা একঘরে করে রাখা হয়েছে। এদিকে বিষয়টি মিমাংসার আশ্বাসে শুক্রবার সন্ধ্যায় আমরণ অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবার।
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা তোরাব আলী বলেন, ৯ মাস পূর্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এর মেয়ের স্বামী, মুজিব কলেজ মোড় মসজিদ কমিটির সভাপতি শেখ ফরিদ ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাসহ কয়েকজন স্থানীয় বখাটে হাসিনা আক্তার নামে এক নারীর ঘর ভাংচুর ও নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় পুলিশ সরেজমিনে তদন্তকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোরাব আলী প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষী দিলে ফরিদ ও তার বাহিনী মিলে তার ও পরিবারের উপর হামলা চালায়। পরে ৯৯৯ ফোন করলে থানা পুলিশের সহায়তায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সখীপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। পরে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় টাঙ্গাইল আদালতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে (সিআর ৪৪২) মামলা করেন ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা। এরপর থেকেই গত নয় মাস ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোরাব আলী ও তার পরিবারকে এক ঘরে করে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত কোরবানির ঈদে আমাকে সমাজের মাংসও দেওয়া হয় নাই। এলাকায় কারো সাথে কথা বলতে দেয় না। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা না দিতেন তাহলে আমাকে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হতো। স্থানীয় এমপি, পৌরসভার মেয়র ও সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বারবার বিচার চেয়েছি। কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি। বাধ্য হয়ে আমি পরিবার নিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছি।
পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী বাদল বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোরাব আলী পৌর আওয়ামী লীগের একজন সদস্য। তাকে এক ঘরে করে রাখা এটা একটা অমানবিক কাজ। তদন্ত করে দায়ীদের বিচার হওয়া উচিত।
এমন অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের মেয়ের স্বামী ও মুজিব কলেজ মোড় মসজিদ কমিটির সভাপতি শেখ ফরিদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা তোরাব আলীকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনিই আমাদের সমাজের ৫০-৬০ জনের নামে মিথ্যা মামলা করেছেন। মামলার কারণে সামাজিক সিদ্ধান্তে মাস ছয়েক আগে সমাজের সদস্য থেকে তাঁর নামটি শুধু কাটা হয়েছে। একঘরে করে রাখা হয়নি। ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার সকল অভিযোগ মিথ্যা। তাঁকে এক ঘরে করে রাখা হয়েছে বিষয়টি সত্য নয়। সমাজের একাধিক ব্যক্তির নামে মিথ্যা মামলা করায় সমাজবাসী তাকে সমাজচ্যুত করেছেন।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি পৌরসভার মেয়রকে জানানো হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সমাধানের আশ্বাসে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার অনশন প্রত্যাহার করেছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার এম.ও গণিসহ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে সখীপুর পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ আজাদ বলেন, আমি কয়েকবার মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছি, কিন্তু সর্বশেষ পারিনি। ওই মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেই বিষয়টি সমাধান করা হবে।

















