শাহীন কামাল
পত্রিকায় খবর দেখলাম মেডিকেলে পড়ুয়া হবু ডাক্তাররা প্রচলিত পরীক্ষা না দিয়ে ডাক্তার হতে চাচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। ডাক্তারদের মতো সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পেশায় প্রবেশদ্বারের চুড়ান্ত পরীক্ষায় অটো পাশের দাবী অযৌক্তিক। ক্লাস না হওয়ার যৌক্তিক কারণে সেশনজটকে দেখিয়ে এই ধরনের দাবি ভবিষ্যতের জন্য শুভ নয়। বাংলাদেশে সেশনজটের ইতিহাস নতুন নয়। বর্তমান এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য অন্যভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হবে, তা অবশ্যই পরীক্ষা না দিয়ে নয়। ডাক্তারদের প্রাকটিকাল বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষার জন্য ক্লাস ব্যতিত অন্য কোন মাধ্যম আছে কিনা, তা আমার বোধগম্য নয়। শিখন কার্যক্রম যাচাইয়ের জন্য প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির বিকল্প এ দেশে এখনও তৈরি হয়নি।
অন্য সকল পেশার চেয়ে ডাক্তারের পেশা নানাবিধ কারনেই গুরুত্বপূর্ণ। এ পেশায় থেকে নিজের আর সমাজের জন্য যা যা ভাল কিছু করার সুযোগ রয়েছে, অন্য পেশায় তা হয়ে উঠে না। এজন্যই হয়তো আমাদের বাবা মারা সন্তানকে একটু মেধাবী দেখলেই ডাক্তার বানাতে চায়। অবশ্য যোগ্যতার বিচার খুব সামান্যই সেই প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ডাক্তারদের পেশা অনেক চ্যালেঞ্জিং। মানুষের জীবন মরন নিয়ে এত কাছের কোন পেশা নেই। এখানে একজন ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় জীবন চলে যেতে পারে মানুষের। একটু সামান্য ভুল কিংবা অজ্ঞতায় যে বিপদ আসতে পারে, তা শোধরাবার পথ থাকে না।
এইচএসসি পাবলিক পরীক্ষার সাথে মেডিক্যাল কলেজগুলোর ফাইনাল পরীক্ষার তুলনা সমীচীন নয়। এইচএসসিতে একজন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার প্রবেশপথে গিয়ে শুধু নক করতে পারবে। তার যোগ্যতা অনুযায়ী সে উচ্চ শিক্ষা স্তরে প্রবেশের সুযোগ পাবে। কেউ যদি ভুলে ঢুকেও যায়, তার মান নির্বাচনের অনেকগুলো ধাপ রয়েছে সম্মুখে। অযোগ্য হলে নিশ্চিত থেমে যাবে।
অটো পাশের এই দাবি থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। বিশ্ব করোনার সংক্রমণে সবাই পর্যদুস্ত। শিক্ষাব্যবস্থার চাকা বেশ মন্থর হয়ে আছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জট লেগে গিয়েছে ইতিমধ্যে। এই জট কাটাতে হবে সঠিক উপায়ে। যেনতেন উপায়ে জট কমানোর দাবি অগ্রাহ্য করাই শ্রেয়।


















