Saturday, November 29, 2025
Homeদেশগ্রামরাস্তায় জন্ম নেওয়া পাগলীর সেই শিশুটি পেল বাবা মা

রাস্তায় জন্ম নেওয়া পাগলীর সেই শিশুটি পেল বাবা মা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাস্তায় জন্ম নেওয়া পাগলীর সেই বাচ্চাটির মা বাবা হলেন লাল মাহামুদ ও রিয়া মাহামুদ দম্পতি। টাঙ্গাইল জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে দত্তক নিয়ে মা বাবার দায়িত্ব নিলেন তারা।
রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে লাল মাহামুদ ও রিয়া মাহামুদ দম্পতির কাছে হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামান, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা বিনতে মতিন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহ্ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শিশু দত্তক নেয়া ওই দম্পতির বাড়ি টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলার নিকলা ইউনিয়নের ভারৈ গ্রামে। জেলা প্রশাসকের শর্ত অনুযায়ী এই দম্পতি শিশুটির নামে একটি ব্যাংকে ১০ লাখ টাকার এফডিআর করেন বলে জানা গেছে। 
জানা গেছে, গত ৫ জুলাই সকাল ৬টার দিকে মির্জাপুর উপজেলা সদরের পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে রাস্তার পাশে ছনের ভেতর এক পাগলী প্রসব ব্যাথায় ছটফট করছিলো। ছনের ভেতর কাউকে গড়াগড়ি করতে দেখে এগিয়ে যান প্রাতভ্রমনে বের হওয়া বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের মজিরন বেগমসহ তিন নারী। মজিরন বেগম পাগলীর কাছে গিয়ে দাইয়ের কাজটি করেন। কিছুক্ষন পর পাগলীটি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। পাগলীটি ওই শিশুকে দুরে সরিয়ে দিলে প্রাথমিক পরিচর্যা শেষে মজিরন বেগম শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা বিনতে মতিনের অফিসে নিয়ে যান। পরে পুলিশের সহায়তায় পাগলী মাকে খুজে বের করে তাকেসহ শিশুটিকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরইমধ্যে শিশুটিকে দত্তক নিতে ২৮টি পরিবার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। জেলা শিশু কল্যান বোর্ড যাচাই বাছাই শেষে ভুঞাপুরের ওই দম্পতিকে নির্বাচন করেন। পরে রবিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুটিকে লাল মাহামুদ ও রিয়া মাহামুদ দম্পতির কাছে হস্তান্তর করেন। জেলা প্রশাসকের শর্ত অনুযায়ী এর আগে ওই দম্পতি শিশুটির নামে একটি ব্যাংকে ১০ লাখ টাকার এফডিআর করেন। 
শিশুটিকে পেয়ে লাল মাহামুদ বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারি মির্জাপুরে এক পাগলী রাস্তায় একটি সন্তান প্রসব করেছে। আমরা শিশুটিকে দত্তক নিতে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করি। আজ আমরা শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পেলাম।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, ফুটফুটে নিস্পাপ শিশুটিকে দত্তক নিতে ২৮টি পরিবার আবেদন করেছিলেন। আমরা যাচাই বাছাই করে একটি নিঃসন্তান সক্ষম দম্পতিকে নির্বাচন করতে পেরেছি। এই দম্পতি আমাদের দেওয়া সকল শর্ত পুরণ করেছে। আশা করবো শিশুটি ওই দম্পতির কাছে ভাল থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বাধিক জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য