স্টাফ রিপোটার:
ভোলার লালমোহন উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর অহিদুর রহমান আরমানের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। টাকা ছাড়া কোনো ফাইলে হাত দেন না তিনি। অডিটরের দায়িত্ব পেয়ে হিসাব রক্ষণ কার্যালয়কে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো:বজলুর রহমানকে পাশ্ববর্তী উপজেলা চরফ্যাশন থেকে এসে লালমোহনে দুইদিন অতিরিক্ত দায়িত্বে পালন করেন। সপ্তাহে ৪দিন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা না থাকার কারনে হিসাব রক্ষণ অফিসে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন অডিটর অহিদুর রহমান আরমান।উপজেলার সরকারি অফিস গুলোর কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ও বকেয়া বিলসহ সবকিছুতেই উৎকোচ দাবী করে থাকেন এই অডিটর আরমান।
উপজেলার প্রাণিসম্পদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাক্তার জয়াদর মুমু অভিযোগ করে বলেন, গত জুন মাসে অফিসিয়াল ও জালানীর ভাউচার বিলের ১০ পারসেন হারে টাকা দাবী করে আরমান। পরে তাকে ৯ পারসেন হারে ১১ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।তার চাহিদা মতো দাবি কৃত উৎকোচ দিতে না পাড়ায় আমার বেতন আটকিয়ে দেয় হিসাব রক্ষণ অফিস। পরে ১৪ আগষ্ট ওই অফিসে গিয়ে জানতে পাড়ি আমার একটি প্রত্যয়ন পত্র লাগবে। বিষয়টি আমি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে জানালে তিনি আমার বেতন ফরওয়াডিং করার জন্য বলেন। এছাড়াও তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, আমার অফিসের পিয়ন শেখ ফরিদ একাউন্ট অফিসে কোন কাজের জন্য গেলে তার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে অফিস থেকে বের করে দেয় এই আরমান।
অপরদিকে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার অভিযোগ করে বলেন, আমি জুলাই মাসের ২৭ তারিখে বেতন সাবমিট করি।একাউন্ট অফিসের উদাসিনতার কারনে আগষ্ট মাসের ১০ তারিখে আমার বেতন আসলেও বাকি কর্মচারীরা এখনো বেতন পায়নি এবং তারা ইচ্ছে করেই বেতন আটকিয়ে রাখছে বলে অভিযোগ করেন এই অফিসার। সমাজসেবা অফিসার আরো অভিযোগ করে বলেন, জুন মাসের অফিসিয়াল বিল ভাউচারের টাকা থেকে হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর অহিদুর রহমান আরমানে আমার নিকট ১০ পারসেন টাকা দাবি করে, তার দাবিকৃত টাকা না দেয়ার কারনে তারা আমাদের অফিস স্টাফদের এখনো বেতন ফরওয়াডিং করেনি।এছাড়াও অফিসিয়ালি যে কোন বিল নিয়ে গরিমশি করে থাকে।
ঘুষ-দুর্নীতি, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সমাজসেবা অফিসের স্টাফদের বেতন আটকিয়ে দেয়ার বিষয়ে লালমোহন উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর অহিদুর রহমান আরমানের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এরিয়ে যান। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সমাজসেবা অফিসের স্টাফদের বেতন আটকিয়ে দেয়ার বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা লালমোহন উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো:বজলুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, তাদের বেতন ফরওয়ার্ডিং করে আমাকে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে। অডিটর আরমানের ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন-এটা আমার জানা নেই।
এবিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনামিকা নজরুল জানান, বিষয়টি আমি আপনার নিকট থেকে জেনেছি, তবে তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















