মোঃ সোয়েব মেজবাহউদ্দিন
লালমোহনের বাইতুর রেদওয়ান জামে মসজিদের নাম সবাই জানেন।লালমোহনের উত্তর বাজারে অবস্থিত এই মসজিদটি ভোলা জেলার একটি অন্যতম মসজিদ। সর্বজন স্বীকৃত যে, অনেক লোক বিভিন্ন প্রকার বিপদে পড়ে এই বাইতুর রেদওয়ান জামে মসজিদের নামে টাকা মানত করে উপকার পেয়েছেন। বিদেশ থেকেও এই মসজিদের নামে টাকা আসে। লালমোহনের অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজেন এই মসজিদে দান করতে অনেকে দেখেছেন।আমিও অকে সময় বিপদে পড়ে বাইতুর রেদওয়ান জামে মসজিদে টাকা দান করার পর আল্লাহ তাহলা আমাকে অনেক বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন।
বাইতুর রেদওয়ান জামে মসজিদের পশ্চিম পাশের কাটপট্টি সড়কের এক টিনসেট দোতালা বাসার সামনে জাতীয় ইমাম কমিটি নামে একটি সাইবোর্ড দেখি। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এই জাতীয় ইমাম কমিটির সভাপতি হিসাবে যিনি দায়িত্বে রেয়েছেন তিনি কোন মসজিদের ইমাম নন। তিনি পানজাবি পাইজামা পড়া একজন মুসল্লী। আরও জানা গেল তিনি জাতীয় ইমাম কমিটির সভাপতির নাম বিক্রি করে থানা পরিষদ হতে নিয়মিত আর্থিক সাহায্য এবং বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা গ্রহন করে থাকেন। এসব অভিযোগ নিয়ে আমি তার জাতীয় ইমাম কমিটির অফিসে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার সাথে আলাপ করতে গেলে তিনি আমার উপর ক্ষেপে যান। তার বিষয়ে মাথা না ঘামানোর হুমকি দেন। আমি তাকে কিছু না বলে চলে আসি। মনে মনে ভাবলাম আমার আরও একজন শত্রু বাড়ল। আমার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার উচ্চতর গনিত পরীক্ষার আগের দিন আমি হঠাৎ করেই অসুস্থ্য হয়ে পরি। প্রচন্ড পেটের ব্যাথা ও পাতলা পায়খান শুরু হয়। কোনপ্রকার অসুধে কাজ হচ্ছিল না। আমার শরীর নিস্তেজ হতে শূরু করে। পরের দিন আমার পরীক্ষা এই ভেবে আমার বাবা ও মা অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক এবং সাব-রেজিষ্ট্রি মসজিদের সাবেক ইমাম নুরুল ইসলাম মাওলানা স্যার আমার বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আমার বাবা তাকে ডেকে নিয়ে আসেন। তিনি আমাকে দেখে বললেন, আমাকে কেউ একজন বানটনা করেছে। নুরুল ইসলাম মাওলানা স্যার তার পকেট থেকে ছোট এক টুকরা কাগজ ও লাল কলম নিয়ে একটা শুরা লিখলেন। এবং আমার আম্মাকে সেই শুরা লিখা কাগজটা পানিতে ভিজিয়ে আমাকে খাওয়াতে বললেন। আমার আম্মা তাই করলেন। আমি শোয়া থকে উঠে আল্লাহ শাফি, আল্লাহ শাফি বলে শুরা ভেজানো পানি খেলাম। অল্প সময়ের মধ্যে আমার পেটের ব্যাথা কমতে শুরু করে এবং আমি অনেকটা সুস্থ্য হয়ে উঠি। নুরুল ইসলাম মাওলানা স্যারকে নাস্তা এবং হাদিয়া দেয়া হল। স্যার আমাকে সুস্থ্য দেখার পর চলে গেলেন। পরে এক সুত্র থেকে জানতে পারলাম, জাতীয় ইমাম কমিটির সভাপতি মানুষকে ক্ষতি করার তাবিজ ও বানটনার কাজ করে। আমার ধারনা, যেহেতু আমার সাথে তার মতানৈক্য হয়েছে, সে হয়তবা এই কাজ করে থাকতে পারেন। নুরুল ইসলাম মাওলানা স্যার অনেক আগে ইন্তেকাল করেছেন। আমি স্যারের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। অনেক বাধা বিপত্তির মধ্য দিয়ে আমার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়। –চলবে
















