বিয়ের পর থেকেই নববধূকে নির্যাতন, খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও টাকা হাতিয়ে নিয়ে তালাক

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ

ভোলার লালমোহনে বিয়ের পর থেকেই এক নববধূর ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন, জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়, স্বামী-শ্বশুর মিলে অর্থ নিয়ে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাথী নামের ওই তরুণী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে আইনি সহায়তা ও সুবিচার চেয়েছেন এবং শনিবার দুপুরে লালমোহন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সুবিচার চেয়েছেন। ভুক্তভোগী সাথী উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।   

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাথী বলেন, গত ১৩ আগস্ট লালমোহন পৌরসভার নয়ানী গ্রামের অটোরিকশা চালক মোসলেউদ্দিনের ছেলে জিহাদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। কাবিন নামায় চার লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য থাকলে এক লাখ টাকা উসিল লেখা হলেও উশিলের টাকা যা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকারসহ পোশাকাদি দেওয়া হয়।

সাথী আরো জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামী জিহাদ কোনো কাজ করতেন না। পরে বিভিন্ন অজুহাতে শ্বশুর মোসলেউদ্দিন তার মায়ের কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে চার লাখ টাকা নেন। এরপর আবার দুই লাখ টাকা দাবি করলে টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। গত ১১ নভেম্বর স্বামী-শ্বশুরসহ পরিবারের আরও সদস্যরা মিলে তাকে মারধর করেন এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন। এ সময় তার গলা চেপে ধরা হয় এবং খালি স্টাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করেন তারা । পরে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়।

ঘটনার পর সাথী লালমোহন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর বরপক্ষ সময় নিয়ে, তিনদিন পর ডাকযোগে তালাকনামা পাঠান স্বামী জিহাদ। পরবর্তীতে এলাকার সমাজকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবির হাওলাদারের বাড়িতে সালিশ ডাকলে সেখানেও বরপক্ষের লোকজন উত্তেজনা দেখিয়ে এক পর্যায়ে শ্বশুর মোসলেউদ্দিন সালিশের মধ্যেই সাথী ও তার মায়ের ওপর চড়াও হয়ে গায়ে হাত তোলেন এবং হুমকি দেন।

সাথী জানান, তালাকের পর জিহাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রচার করছেন, যা তার সম্মানহানিকর। এজন্য সাথী বিয়ের সময় ও পরে নেওয়া টাকা, স্বর্ণালংকার ফেরত এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে সাথীর স্বামী মো. জিহাদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্বে যেসব অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা ঠিক নয়। তালাক কেন দিয়েছেন এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

 এ বিষয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here