Tuesday, January 13, 2026
Homeদেশগ্রামবিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ! পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ! পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

জাহিদ দুলাল, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ
ভোলার লালমোহনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বিডিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হয়েছে বলে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন দু‘পক্ষ।

জামায়াত সমর্থিত বিডিপি সংসদ সদস্য প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টা উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শুক্রবার সকাল ১১ টায় রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে জামায়াতের নারী কর্মীরা গণভোট ও সাংগঠনিক কাজে ইউনুছ পাটওয়ারী বাড়িতে যান। তখন ওখানকার নুরনবীর ছেলে রুবেল (২৮) ওই নারী কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং নারী কর্মীদের হেনস্থা করেন। তখন একজন হেনাস্থাকারী নারী কর্মী তার স্বামী রায়চাঁদ বাজারের ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিনকে এ ঘটনা জানান। জসিম উদ্দিন ঘটনা শুনে মুঠোফোনে রুবেলের কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে রুবেল খুব খারাপ ভাষায় গালাগালি করে। এরপর রুবেল ক্ষিপ্ত হয়ে জসিম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে তার সাথে হাতাহাতি ও আক্রমন করে। এ ঘটনা শুনে তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। ঘটনাটি সেখানে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।

কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা সন্ধ্যার পর রায়চাঁদ বাজরে সংঘবদ্ধ হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হানিফ হাওলাদার সেখানে উপস্থিত হন। তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে আরো আক্রোমনাত্নক হয়ে উঠেন। আমি ঘটনা শুনে আমাদের নেতাকর্মীদের সেখান থেকে চলে আসতে বলি। আমাদের নেতাকর্মীরা বাজার থেকে চলে আসতে শুরু করলে পিছন থেকে হঠাৎ তারা আমাদের কর্মীদের উপর আক্রমন করে। এক পর্যায়ে দু‘পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় তারা আমাদের ১৫ জন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তারা লালমোহন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উক্ত ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তিনি।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় লালমোহন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির এমপি প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম জামায়াতের সহায়তায় মহিলা লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে লালমোহনের স্বভাবিক পরিস্থিতিকে খারাপ করার লক্ষ্যে শুক্রবার দুপুরে মহিলা লীগের নেত্রীদের দিয়ে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালায়।

আমাদের পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কেউ কোন মাথা ঘামায়নি। পরে মাগরিববাদ লালমোহন থেকে জামায়াত ও বহিরাগত নিষিদ্ধ আওয়ামী ক্যাডার নিয়ে আমাদের যুবদলের সভাপতি জসিম ও তার ভাই আলমগীর, রুহুল আমি, নুরনবীসহ ১৫ জনকে অতর্কিত আক্রমন করে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ও ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। জামায়াতের কর্মীদের দিয়ে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা করে তারা বিষয়টিকে উদের পিন্ডি বুদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে। নিজামুল হক নাঈম দাবী করেছেন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতিতে কিভাবে এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটল এটা আমাদের প্রশ্ন? তারা লালমোহনের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে অবনতি করতে চাচ্ছে। ঘটনাটি জামায়াত আওয়ামীলীগকে ব্যবহার করে ঘটিয়েছে। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করছি এবং ঘটনার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।  

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, জুমার নামাজের আগে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের দাওয়াতী কাজের ব্যগাত নিয়ে উত্তেজনা তৈরী হয়। এরপর আমরা জানার পর ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে ঘটনাটি মিমাংশা করে দেয়া হয়। কিন্তু সন্ধার পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা রায়চাঁদ বাজারে মোটরসাইকেল মহড়া দেয়। এরপরই বিএনপির নেতাকর্মীরাও একত্রিত হয়। রায়চাঁদ বাজারে রাস্তার কাজে ব্যবহ্রত ইট দিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।#

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বাধিক জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য