পৌষের শীতেই কাঁপছে পুরো বাংলাদেশ। আবহাওয়া অফিস বলছে, জানুয়ারীতে আরও ৪-৫ টি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। পুরোদেশে অস্বাভাবিকভাবে কমেছে শুরু করেছে দিনের তাপমাত্রা। কয়েকদিন রোদের দেখা নেই বলেলেই চলে। ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডার চাদর চারপাশে।
পৌষের এমন শীতে কাঁপছে পুরো দেশ। সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতায় নাকাল শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সি মানুষ। বিপর্যস্ত জনজীবন, কমে গেছে মানুষের চলাচল। প্রয়োজন ছাড়া অনেকে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগ প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন অনেক খামারি ও কৃষক। ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। শীতের পোশাকের বিক্রি বাড়লেও অনেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকান নির্ধারিত সময়েরই আগেই বন্ধ করে দিচ্ছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সুত্র বলছে, দেশে শীতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। ঘন কুয়াশা বেড়ে গেছে। ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় যে ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে তা গত ২০ বছরে হয়নি। সেদিন ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ এর কয়েকদিন আগেও ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৮-২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরও বলেন, শৈত্যপ্রবাহ কোনো সমস্যা নয়। তাপমাত্রা যদি ৪ ডিগ্রিতেও নেমে আসে কিন্তু আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং সূর্যের আলো পাওয়া যায় তাহলেও শীতের অনুভূতি কম হবে। আশা করা যায়, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে সার্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতি ভালো হবে।
আবহাওবিদরা বলছেন, দেশের শীতকালের স্থায়িত্ব কমলেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। বৃষ্টিপাত হলে এই কুয়াশাবলয় কেটে আকাশ পরিষ্কার হতো। কিন্তু বায়ুদূষণের তীব্রতার কারণে যাচ্ছে না কুয়াশাবলয়। সহসা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জানুয়ারিতে ৪-৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এগুলোর মধ্যে দু-তিনটি মাঝারি এবং একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা আছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও আবহাওয়াবিদ মো. মমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আসছে শৈত্যপ্রবাহের ১-২টি তীব্র হতে পারে। কুয়াশাবলয় থাকা এবং সূর্যের আলো ভূ-পৃষ্ঠে না আসার কারণেই শীতের অনুভূতি বেশি। জানুয়ারিতে এই শীত থাকবে। মাঝে মাঝে কমবে, মাঝে মাঝে বাড়বে।
এদিকে শনিবার দেশের ৯ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে-রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। রানওয়ে দৃশ্যমান না থাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘন কুয়াশার কারণে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। প্রায় ডজনখানেক ফ্লাইট ২ থেকে ৪ ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকায় অবতরণ করেছে।
তীব্র ঠান্ডার কারণে সারা দেশে বেড়ে গেছে ঠান্ডাজনিত রোগ। সবচেয়ে কষ্টে আছে শিশু ও বয়স্করা। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দা মেহনাজ বলেন, এ সময় সবাইকে পর্যাপ্ত শীতের পোশাক ব্যবহার করতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কৃষক মো. সালিম বলেন, তীব্র শীতের কারণে ইরি ধানের বীজতলা (চারা) নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক সাদা হয়ে গেছে। মরে গেছে অনেকগুলো। এতে ধান রোপলের মৌসুমে চারা গাছের সংকট হতে পারে।
কুড়িগ্রামে হাড়কাঁপানো শীত, তাপমাত্রা নামল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে : কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে জবুথবু এ জেলার মানুষ। শনিবার জেলায় তাপমাত্রা নেমে আসে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কনকনে ঠান্ডায় জয়পুরহাট, পঞ্চগড় ও বরিশালে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।


















