মোঃ সোয়েব মেজবাহউদ্দিন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হওয়ার পর দেশ গঠনে সকল রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।
বিজয় উদযাপনে শান্ত ও সংযত থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে কোথাও ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে, তবে সেই বিরোধ যেন কোনোভাবেই প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধে রূপ না নেয়। যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেন। তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হবে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে। আইনের প্রয়োগ হবে সম্পূর্ণ ন্যায়ের ভিত্তিতে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে একটি জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি এই অর্জনকে ‘উদারপন্থি গণতন্ত্রের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নেওয়ায় তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, আর বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্র্বতীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ধন্যবাদ জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সরকার ইতিবাচক ও গঠনমূলক পদক্ষেপ নেবে। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্য শেষে তারেক রহমান দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
উল্লেখ্য ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফলের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটসহ ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং নবীন দল এনসিপি ৬টি আসনে জয় পেয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়।

















