Tuesday, February 24, 2026
Homeআন্তর্জাতিকভারতের ঝাড়খন্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৭

ভারতের ঝাড়খন্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৭

ভারতের ঝাড়খন্ডের চাতরা জেলার সিমারিয়ার কাছে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে সাত আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। রাজ্য সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, উড়োজাহাজটি রাঁচি থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চাতরা জেলার উপকমিশনার কীর্তিশ্রী জি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সাতজনই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। উড়োজাহাজটি রাঁচি থেকে দিল্লি যাচ্ছিল। বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা রেডবার্ড এয়ারওয়েজ পরিচালিত উড়োজাহাজটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে।

উপকমিশনার কীর্তিশ্রী জির তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে উড়োজাহাজটি নিখোঁজ হয় এবং পরে সিমারিয়ার ঘন জঙ্গলঘেরা বারিয়াতু পঞ্চায়েত এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। উপবিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) শুভম খন্ডেলওয়াল পিটিআইকে নিশ্চিত করেছেন, সাতজনের মরদেহই উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সরাজদীপ সিং, সঞ্জয় কুমার, বিকাশ কুমার গুপ্ত, শচীন কুমার মিশ্র, অর্চনা দেবী ও ধুরু কুমার।

উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হচ্ছিল রোগীকে রাঁচির দেবকমল হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনন্ত সিনহা জানান, লাতেহার জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় কুমারের (৪১) জন্য ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি শরীরের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে।

রোগীর এক স্বজন জানান, শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় সড়কপথে নেওয়া সম্ভব ছিল না বলেই তাঁরা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বেছে নিয়েছিলেন। বিজয় কুমার নামের এক আত্মীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তাঁকে (সঞ্জয়) সড়কপথে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসক বলেছিলেন, তাতে রোগী পথেই মারা যেতে পারেন। চিকিৎসক পরামর্শ দেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা গেলেই যেন হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর করা হয়।’ বিজয় আরও বলেন, ‘তাই আমরা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সিদ্ধান্ত নিই। পরে সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় প্রচণ্ড বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছিল। ঝড়ের মধ্যে বিকট শব্দে উড়োজাহাজটি আছড়ে পড়ে।

রাঁচি বিমানবন্দরের পরিচালক বিনোদ কুমার জানান, উড্ডয়নের প্রায় ২০ মিনিট পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে উড়োজাহাজটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়া দুর্ঘটনার একটি কারণ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরেই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বাধিক জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য