আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, রক্তঝরা পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পূর্ণ হলো। ২০০৯ সালের এই দিনে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হয় দেশের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও বিভীষিকাময় হত্যাযজ্ঞ। এই নির্মম ঘটনায় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা এবং আরও ১৭ জনসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ওই কলঙ্কজনক বিদ্রোহের পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে পুনর্গঠন করা হয়। ২০১০ সালে সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হয়, যা ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। পাশাপাশি বিদ্রোহের ঘটনায় বাহিনীর নিজস্ব আইনে (সামারি ট্রায়াল) এবং বিশেষ আদালত গঠন করে ৮ হাজার ৭৯৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছর এই শোকাবহ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবারই প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি এই মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।
আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, রক্তঝরা পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পূর্ণ হলো। ২০০৯ সালের এই দিনে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হয় দেশের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও বিভীষিকাময় হত্যাযজ্ঞ। এই নির্মম ঘটনায় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা এবং আরও ১৭ জনসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন।
দিবসটি উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহতদের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। বাণীতে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়নি। ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে আরও বলেন, পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চলমান। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল, নাগরিক হিসেবে এই বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব এবং গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, আজ পুনরায় সেই শপথে বলীয়ান হতে হবে।
এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠন করলে বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হবে এবং দিনটিকে জাতীয়ভাবে পালন করা হবে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ গুম ও পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। পরিবারের সদস্যদের ওপরও চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। দেশের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রথম বড় ধরনের আঘাত হিসেবেই মূল্যায়ন করে থাকেন।
বিচার প্রক্রিয়ার ১৭ বছর
নৃশংস এই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিলেও ১৭ বছরেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। মামলাটি এখন চূড়ান্ত রায়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে আসামির সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় এই হত্যা মামলায় ৮৫০ জনকে আসামি করা হয়। বিচারিক আদালত ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে হাইকোর্টের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন বহাল থাকে।
আদালত সূত্র জানায়, হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ ৭৩টি এবং রাষ্ট্রপক্ষ ২০টি আপিল ও লিভ টু আপিল করেছে। আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী ও নবনিযুক্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ ইতিমধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছে। মামলাটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় রয়েছে এবং ক্রম অনুসারে এর শুনানি হতে পারে।
অন্যদিকে, বিস্ফোরক আইনে করা মামলাটির বিচারকাজ এখনো বিচারিক আদালতে চলমান। কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার-সংলগ্ন বিশেষ আদালতে এই মামলার বিচার চলছে। ৮৩৪ জন আসামির এই মামলায় ১ হাজার ৩৪৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি বোরহান উদ্দিন জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।


















