Tuesday, January 13, 2026
Homeবাণিজ্যতিতাসের গ্যাস সরবরাহ শুরু, গ্যাসের প্রবাহ বাড়তে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে

তিতাসের গ্যাস সরবরাহ শুরু, গ্যাসের প্রবাহ বাড়তে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে

রাজধানীতে তিতাসের সরবরাহ শুরু হয়েছে, গ্যাসের প্রবাহ বাড়তে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। আজ শনিবার বিকেলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানানো হয়েছে।

মিরপুর রোডে ফেটে যাওয়া ভালভ পরিবর্তন করে নতুন ভাল‌ভ বসানো হয়েছে। এরপর ওই এলাকার পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। তবে গ্যাসের স্বল্পচাপ পরিস্থিতির উন্নতি হতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ধীরে ধীরে চাপ বাড়লে গ্যাসের প্রবাহ স্বাভাবিক হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ভালভ দিয়ে পাইপলাইন গ‍্যাসের প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়। প্রয়োজনে বাড়ানো বা কমানো যায়। এটি বিতরণ লাইনের বিভিন্ন নির্দিষ্ট পয়েন্টে থাকে।

দুই সপ্তাহ ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ‍্যাসের (এলপিজি) সংকট রাজধানীতে। এর মধ্যে ৪ জানুয়ারি আমিনবাজারে পাইপলাইন ছিদ্র হওয়ায় এক সপ্তাহ ধরে কম চাপে গ্যাস পাচ্ছেন ঢাকাবাসী। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

এর মধ্যে আজ আবার নতুন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে গ‍্যাসের চাপ আরও বেশি কমে যায়। সকালে তিতাসের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিরপুর রোডে গণভবনের সামনে চার ইঞ্চি ব্যাসের ভালভ ফেটে ছিদ্র তৈরি হয়েছে। এটি মেরামতের জন্য বেশ কয়েকটি ভালভ বন্ধ করায় বিতরণ লাইনে গ‍্যাসের চাপ কমে গেছে। বিতরণ লাইনে চাপ সীমিত করায় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলীসহ সংলগ্ন এলাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ রয়েছে।

এদিকে তিতাস সূত্র বলছে, আমিনবাজারে পাইপলাইনের ছিদ্র মেরামত করা হলেও পাইপলাইনের পানি পুরোপুরি পরিষ্কার করা যায়নি। এতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে। এর মধ্যে নতুন দুর্ঘটনায় গ্যাস সরবরাহ আরও কমে যায়। তিতাস গত বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশে মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় চুলাই জ্বলছে না। ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করা হয়েছে। তবে মেরামতকালে পাইপে পানি প্রবেশ করে।

ঢাকায় রান্নার জ্বালানির উৎস মূলত দুটি—তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পাইপলাইনে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অন্যটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রি করা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), যা সাধারণত সিলিন্ডারে বিক্রি করা হয়। সংকট চলছে দুই ক্ষেত্রেই।

আমদানি কম হওয়ায় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে বাজারে এলপিজির সরবরাহ কমে গেছে। মানুষ দোকানে দোকানে ঘুরে গ্যাস পাচ্ছেন না। পেলেও ১ হাজার ৩০৬ টাকার ১২ কেজির এক সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হচ্ছে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়। দুই ধরনের গ্যাস-সংকট একসঙ্গে শুরু হওয়ায় অনেক জায়গায় মানুষ রান্না করতে পারছেন না। যাঁরা সচ্ছল, তাঁরা বৈদ্যুতিক চুলা কিনে নিচ্ছেন। কেউ কেউ রাইসকুকারে ভাত রান্না করে তরকারি রেস্তোরাঁ থেকে কিনে আনছেন। তবে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। তাঁদের পক্ষে বৈদ্যুতিক চুলা অথবা রাইসকুকার কেনা কঠিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বাধিক জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য